শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
গঙ্গা চুক্তির দড়ি টানাটানি, ভারতের শর্তে বাংলাদেশের পরীক্ষা!
অনলাইন ডেস্ক
নিশ্ছিদ্র পরিবেশে বাংলাদেশের সঙ্গে সব ইস্যুতে আলোচনা করতে ভারত প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক মোকাবিলা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন জয়সওয়াল। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে,
১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন সংক্রান্ত এক প্রশ্নে জয়সওয়াল জানান, পারস্পরিক মঙ্গলকর আলোচনার অনুকূল আবহে বাংলাদেশের সঙ্গে সব ইস্যুতে ভারত আলোচনায় প্রস্তুত। গঙ্গাসহ ৫৪টি নদীর পানি দুই দেশ ভাগ করে। এ নিয়ে আলোচনা করতে যৌথ নদী কমিশন সক্রিয় আছে। পানি বণ্টন ইস্যুতে কেন্দ্র সরকার সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও প্রতিনিধিদের পরামর্শক্রমে অবস্থান ঠিক করে।
আরেক প্রশ্নে জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারত যেসব বাণিজ্য সংশোধনী বাংলাদেশের জন্য ঘোষণা করেছে, তা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ন্যায্যতা, সমতা এবং পারস্পরিকতা নিশ্চিতের আগ্রহের ওপর ভিত্তি করে।’
তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা মূল ইস্যুগুলো সমাধানে বাংলাদেশের প্রতীক্ষায় আছি। বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠকসহ বিভিন্ন কাঠামোগত আলোচনায় ভারত এই বিষয়গুলো বারবার উত্থাপন করেছে।
গত ১৯ জুন চীন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ সভায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে জয়সওয়াল বলেন, আমরা আশেপাশের অঞ্চলের অগ্রগতি এবং তার ভারতের স্বার্থ ও নিরাপত্তায় প্রভাবের বিষয়ে সবসময় নজর রাখি। প্রতিটি দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আলাদা হলেও, সেই সম্পর্কগুলো নতুন প্রেক্ষাপটে পর্যালোচনা হয় এবং জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়।
গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভারতীয় সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটি ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ নিয়ে আলোচনার জন্য চার বিশেষজ্ঞকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানায়, এই বিশেষজ্ঞরা হলেন সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শঙ্কর মেনন, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম হাশনাইন, ঢাকায় ভারতের প্রাক্তন হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অমিতাভ মাত্তু।
ভারতীয় সংসদীয় কমিটির বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনার খসড়া নথি অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞদের কাছে যেসব বিষয়ে মতামত চাওয়া হবে তা হলো—ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থান, সেখানকার অস্থিরতা থেকে ভারতের নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ-চীনের সম্ভাব্য কৌশলগত সখ্য নিয়ে ভারতের উদ্বেগ।